আজ, Tuesday


১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

আলীকদমে এসএসসির ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
আলীকদমে এসএসসির ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মোঃ হৃদয় চৌধুরী : আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার গড়ে পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ। মোট ৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাই পেয়েছে ৬টি জিপিএ-৫। অন্যদিকে, উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার নেমে এসেছে ১৫.৫২ শতাংশে। বিদ্যালয়টির ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন; অকৃতকার্য হয়েছে ৪৯ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

‎ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে সর্বোচ্চ সাফল্য: উপজেলার সাতটি বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১ জন। পাসের হার ৯৭.৬২ শতাংশ। উপজেলার মোট ৮টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে ৬টিই পেয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

‎আলীকদম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮০.৯৬ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। ‎আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে এবং ২৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৬৫.০৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ‎আলীকদম সেন্ট মেরী স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ১৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬১.৭৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

‎অন্বেষা কলেজিয়েট স্কুলের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন পাস করেছে এবং ৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৫৩.৩৩ শতাংশ। এখানেও কোনো জিপিএ-৫ নেই।
‎‎আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৩১ জন অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৫.৬১ শতাংশ। ‎আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৩৭ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ১৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২২ জন অকৃতকার্য হয়ছে। পাশের হার ৪৫%
‎‎
‎সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন পাস করেছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৯ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ১৫.৫২ শতাংশ।

‎ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি কম ফল করা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের মতে, আলীকদমের মতো দুর্গম পার্বত্য উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফলাফলের এমন বড় ব্যবধানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক সংকট, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের নানা সীমাবদ্ধতা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের অভাব এবং পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতিকে তারা অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই হবে না; যেসব বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে পাসের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পাঠদানের মানও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিভাবকেরা প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক ক্লাস এবং শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আলীকদমের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে, সেসব বিদ্যালয়ের ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com